ফিরে দেখা
আমাদের এই দেশটা এক সময় শুধুমাত্র কৃষি নির্ভর ছিল, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জীবন জীবিকার ধরনটাও পাল্টে যাচ্ছে, ৭০-৮০ দশকের পরিসংখ্যানের দিকে আমরা যদি ফিরে তাকাই, তাহলে দেখা যায় যে, পাট, চামড়া, তামাক, ইত্যাদি দেশের বাইরে রপ্তানি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পেরেছি। আবার ওই সময়ের পর থেকে দেশে বিভিন্ন গার্মেন্টস, বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরী তে ব্যাপক লোকের কর্ম সংস্থান হয় এবং আমরা পোশাক শিল্পের মাধ্যমে আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সাথে সাথেই বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারও আমরা করতে পারছি ও শিখছি। কিন্তু আমাদের দেশের জনসংখ্যা যে ভাবে বাড়ছে, সেই ভাবে বাড়ছে না কর্মসংস্থান, লেখা পড়া শেষ করার পরও একজন তরুনকে একটি চাকুরীর জন্য বিভিন্ন কোম্পানীর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। চাকুরী যেন সোনার হরিণের মত অধরাই থেকে যাচ্ছে। যদিও বা চাকুরী পাওয়া গেল কিন্তু থাকছে না অর্জিত শিক্ষার সাথে কোন সম্পর্ক, পাওয়া যাচ্ছে না যোগ্যতার উপযুক্ত সম্মান।
তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মাধ্যমেই আমাদের দেশের বর্তমান এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যে তুরুণরা একটা চাকুরীর জন্য বসে নেই, নিজেরাই খোঁজে নিচ্ছে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চাঁকা। আর সেটা হচ্ছে ইন্টারনেট এর কল্যানে। যার মাধ্যমে এমন একটি ব্যাপার আমাদের দেশে ঘটতে যাচ্ছে, তা অদুর ভবিস্যতে পোশাক শিল্পের বৈর্দেশিক মুদ্রার আয়কে ছাড়িয়ে যাবে বলে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সারগন বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ হিসাবে ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে আমাদের দেশে এরকম কয়েকশত অনলাইন ফ্রিলান্সার রয়েছেন যারা নিয়মিতভাবে এধরনের কাজগুলো করে আসছেন। এই কাজগুলোর মধ্যে গুগল এডসেন্স অন্যতম, আর এই গুলল এডসেন্স নিয়ে আমাদের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আমারা পর্যায় ক্রমে এখানে উপস্থাপন করছি।
গুগল এডসেন্স কি ভাবে কাজ করে?
ইন্টারনেটে যাদের নুন্যতম হাতে খরি রয়েছে বা মোটামুটি ভাবে ঘোরাঘুরি করছেন, তারা নিশ্চয় এড বাই গুগল চিহ্নিত কিছু সারিবদ্ধ বিজ্ঞাপন দেখেছেন, কিন্তু এর মাধ্যমে যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ হতে পারে, এই বিষয়টা অনেকেই জানেন, আবার অনেকেই জানেন না। এই বিজ্ঞাপনগুলো মুলত বিজ্ঞাপনদাতা ও বিজ্ঞাপন প্রকাশক এই দুইয়ের mgš^‡q ভূমিকা রাখছে গুগল। কোন একজন বিজ্ঞাপনদাতা যখন তার বিজ্ঞাপনটি ইন্টারনেটে নিমিষেই ছড়িয়ে দিতে চান, তখন গুগল এড-ওয়ার্ড-এর মাধ্যমে ঐ বিষয় ভিত্তিক প্রকাশক ওয়েব সাইট মালিকদের সাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যখন কোন দর্শক ঐ সাইটি দেখে এবং বিজ্ঞাপন দেখে মুগ্ধ হয়ে ক্লিক দিয়ে বিজ্ঞাপন দাতার সাইটে ঢুকে পরেন, তখন বিজ্ঞাপন দাতার নির্ধারিত অংকের টাকা বিজ্ঞাপন প্রকাশকের একাউন্টে জমা হয়। এবং নূনতম ১০০ (একশত) ডলার হলে প্রকাশক উক্ত ডলারগুলো অনলাইন একাউন থেকে উত্তোলন করে ক্যাশ করতে পারে।
গুগল এডসেন্স এর সুবিধা
অনলাইনে প্রায় সকল ধরনের কাজ করা যায়। আপনি যে কাজে পারদর্শী তা দিয়েই ঘরে বসে আয় করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যে ধরনেরই কাজ করেন না কেন, সেটি একটি সীমাবদ্ধ কাজ, এবং প্রত্যেকটি কাজেই বিচিত্রতা রয়েছে। একটা সময় শুরু হয়ে নির্দিষ্ট একটি সময়ে শেষ হয়ে যায়। আবার নতুন করে কাজ অনুসন্ধান করতে হয় যা নতুন একটি কাজ এবং আগের করা আরেকটি কাজের সাথে অনেক আংশেই মিল থাকে না। কিন্তু গুগল এডসেন্স এর কাজ শুরু করে অফুরন্ত সময় একই কাজে লেগে থাকতে পারেন একই রকম মার্কেটিং পলিসির মাধ্যমে। এমনকি সাইট তৈরী করার কিছুদিন মার্কেটিং করার পর, সাইটি জনপ্রিয় হয়ে গেলে কোন রকম কাজ ছাড়াই আপনি প্রতি মাসে আয় করতে পারেন এমনকি আপনি যখন ঘুম পারবেন তখনও আপনার আয় হতে থাকবে। এটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আপনারা ছোটবেলায় নিশ্চই একটি গল্প শুনেছেন অথবা শুনে থাকবেন যে, একটি কৃষকের হাস প্রতিদিন একটি করে সোনার ডিম পারতো, আর সেই ডিম বিক্রি করে সে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলেছিল কৃষক। এই ধরনের গল্প শুধু মাত্র কল্পনাতেই মানানসই ছিল একটা সময়, কিন্তু এখন ইন্টারনেটের কল্যানে, বাস্তবে সহসাই হয়ে চলছে। আর এ জন্য আপনাকে যে কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকধারী হতে হবে তা কিন্তু নয়। আপনি চাইলেই কোন একটি নির্দ্রিষ্ট বিষয়ের উপর সাইট তৈরী করে গুগল এডসেন্স-এর কাজ সহজেই করতে পারেন।
গুগল এডসেন্স এর অসুবিধা
বাংলাদেশে যারা গুগল এডসেন্স-এর কাজের সাথে জড়িত এবং নিয়মিতভাবে চেক পাচ্ছেন, তারা টাকা পাওয়ার আনন্দে আরো এগিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই এডসেন্স-এর কাজ শুরু করছেন ঠিকই, কিন্তু সঠিক মার্কেটিং এর কৌশল না জানার কারণে আয় তেমন টা হচ্ছে না এবং ১০০ (একশত) ডলার জমাতে দীর্ঘ সময় লাগছে এতে একপর্যায়ে মনবল হারিয়ে তার কাজ স্থগিত করে ফেলেছেন, তারা মনে করেন যে এ লাইনে ভাল কিছু করা সম্ভব নয়। এমনকি যারা এই লাইনে ভালো করছেন তারাও ব্যস্ততার কারনে তেমন মার্কেটিং এর কলাকৌশল সম্পর্কে সাহায্য সহযোগিতা করেন না, তাদের মধ্যে এমনো কিছু লোক রয়েছে যে, তারা মনে করেন এতে তারে বুঝি আয় কমে যাবে।
মার্কেটিং এর কৌশলের সঠিক ব্যবহারে মাধ্যমে প্রতি মাসে টাকা পেতে আমাদের হ্মুদ্্র প্রয়াসঃ
অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ফ্রি শ্রেনীবদ্ধ বিজ্ঞাপনের সাইটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের লক্ষে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি সমগ্র পৃথিবীর প্রতিটি দেশ ভিত্তিক বিচিত্র রকমের শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপনের সাইট তৈরী করার। প্রথমত আমরা ১০০ (একশত) টি ক্লাসিফাইট সাইট বা শ্রেনীবদ্ধ বিজ্ঞাপন সাইট তৈরী করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি এবং এই ১০০ (একশত) টি সাইটের পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা থেকে আমরা পরিচালক আহ্বান করছি। যাদের কে আমরা সবধরনের অনলাইন মার্কেটিং এর কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছি। উল্লেখ্য যে, একটি ক্লাসিফাইট সাইটে সকল প্রকার বিজ্ঞাপন যুক্ত হওয়ার কারণে সব বিয়য়ের গুগল বিজ্ঞাপন স্থান পায় এবং সঠিক মার্কেটির পলিসি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি ২৪ ঘন্টায় নূন্যতম ৪-৫ ডলার আয় হয়। তাহলে মাসে ১০০-১৫০ ডলার আয়ের সম্ভাবনা কাজ করে। এবং একটি এডসেন্স একান্টের চ্যানেল সুবিধার মাধ্যমে ১০০ (একশত) টি সাইটের আয় মাসে ১০,০০০ (দশহাজার) ডলার থেকে ১৫,০০০(পনের হাজার) ডলার আয় হয়। এতে কোন এক দুর্বল অমনযোগী কম আয়কৃত সাইট পরিচালক যদি মাসে ৩০-৪০ ডলারও আয় করেন তাতে তার সেই টাকা প্রতি মাসে পাওয়ার কারণে তার মার্কেটিং এর কাজ মনযোগের সাথে দৃঢ় ভূমিকা পালনে সচেষ্টতা আসবে বলে আমার বিশ্বাস।
মার্কেটিং এর কাজ আয়ত্তে আনার জন্য অত্যাধুনিক প্রশিক্ষন
আমাদের রয়েছে প্রজেক্ট ভিত্তিক পর্যাপ্ত মার্কেটিং টিউটোরিয়াল ভিডিও সিডি, সরাসরি অনলাইনে সব ধরনের সহযোগীতা তো রয়েছেই। যা থেকে আপনি মার্কেটিং এর কাজ গুলো ধাপে ধাপে শিখে নিতে পারেন এবং ব্যাপক অনুশীলনের মাধ্যমে হতে পারেন একজন অনেক বড় মাপের অনলাইন ফ্রিল্যানসার।
নিশ্চয়তার সাথে আয় করার জন্য আমাদের অন্যান্য প্রকল্প সমূহ ঃ
অনলাইনে আমাদের রয়েছে বিভিন্ন ধরনের র্দীঘমেয়াদী চলমান প্রকল্প এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্লাসিফাইড এড পোষ্টিং, ই-মেইল একাউন্ট তৈরী করা, ক্যাপচা এন্ট্রি, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ডোমেন এবং হোষ্টিং রিসেল, ওয়েব ডিজাইন, ডাটাবেইজ মেনেজমেন্ট, রচনা লেখা, রেজিষ্ট্রেশন ফরর্ম ফিলাপসহ অনেক কর্মপ্রকল্প। আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে আপনি হতে পারেন একজন গর্বিত কর্মজিবী নাগরিক।
উপসংহার
ইন্টারনেট এখন রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই। সরকারী বে-সরকারী বিভিন্ন টেলিফোন ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলায়। টেকনাফ থেকে টেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া বাংলাদেশের প্রতিটি পরতে পরতে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ইন্টারনেট নেই। তাই এই সু-বিশাল সুবিধার কল্যাণে একজন প্রত্তন্ত পাড়া-গ্রামের প্রযুক্তি অনুরাগীরাও আয় করতে পারেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে। বাংলাদেশে এই প্রথম আমরাই প্রতি মাসে টাকা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছি এবং প্রতি মাসেই নিশ্চয়তার সাথে টাকা পাঠানোর সু-ব্যবস্থা করছি। আমাদের কোটা সীমাবদ্ধ, তাই আপননিবন্ধন করুন আপনার নাম
|